সারাদেশ

পাড়াকেন্দ্রের শিক্ষায় আলোকিত শিশু ও আলোকিত পাহাড়

এম.কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত পাড়াকেন্দ্রে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় আলোকিত শিশু ও আলোকিত পাহাড়। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের অধীনে কোমলমতি কঁচিকাঁচা শিশুদের পাঠদান দিয়ে আসছে পাড়াকেন্দ্রের শিক্ষকরা।

পাড়াকেন্দ্রের শিক্ষার পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলায় স্ব-স্ব এলাকায় শিশুদের টিকাদান, গর্ভবর্তী মহিলাদের সেবাদান, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, পরিবার ছোট রাখাও স্বাস্থ্য শিক্ষার উপর উঠান বৈঠক করে থাকেন পাড়াকেন্দ্রের শিক্ষকরা।

এছাড়াও পার্বত্যাঞ্চলের মহিলা ও শিশুদের মৃত্যুরহার রোধ, পুষ্টি উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, শিশু শিক্ষা, প্রাক-শৈশব উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সম্মত পয়ঃব্যবস্থার উন্নয়ন ও কমিউনিটি সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার হার সম্প্রসারণের লক্ষে দাতা সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায় সমান্বিত সমাজ উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পটি তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলার ১২১টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার পাড়া বা গ্রামে ২ লাখ ৬ হাজারটি পরিবারের জন্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পর পাড়াকেন্দ্র ভিত্তিক সামাজিক সেবা অব্যাহত রাখা এবং এর স্থায়ী কাঠামো উন্নয়নের লক্ষে দাতা সংস্থা ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকারের অভিপ্রায় অনুযায়ী ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে’।

প্রকল্পের আওতায় দুর্গম, প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকায় শতভাগ মানুষকে মৌলিক সামাজিক সেবা প্রবাহের সাথে সম্পৃক্ত করে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক সূচকেই ইতি বাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্তব্য নির্ভর উপকরণ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ডিজাইন অনুকরণ করে পাড়াকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ৪ হাজার ৫শ’ ‘ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস ডেলিবারি আউটলেট’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আধুনিকতার ছোঁয়াতে পাড়াকেন্দ্রে সেবা প্রদানে কি থাকছে পাড়াকেন্দ্রগুলোতে- ৩-৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-শৈশব যত্ন নিশ্চিতকরণে শিশু বিকাশ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দান। সরকারি ইপিআই কার্যক্রম নিশ্চিত করণে সহায়তা প্রদানসহ গর্ববর্তী, প্রসূতি এবং নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা, পরামর্শ দান ও রেফারেল। নবজাতক, শিশু কিশোরী ও মহিলাদের অপুষ্টিরোধ প্রত্যক্ষ পুষ্টি কার্যক্রম, পরামর্শ দান ও রেফারেল। স্বল্পব্যয়ী ও যথোপযুক্ত জীবন নির্বাহ কৌশল ও পদ্ধতি প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণ, শিশু সুরক্ষা, শিশু অধিকার ও নারীর অধিকার বিষয়ক ধারণা প্রদান ও কমিউনিটি সদস্যদের এসব বিষয়ে আচরণগত পরিবর্তন সাধন।

কমিউনিটির হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণও সরকারি-বেসরকারি কাজে ব্যবহার ও কমিউনিটির সভা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সামাজিক কাজে ব্যবহার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় একজন পাড়াকর্মী কেন্দ্রটি পরিচালনা করেন। ৭ সদস্য বিশিষ্ট পাড়াকেন্দ্র পরিচালনা কমিটি পাড়াকেন্দ্রের যাবতীয় কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করেন।

পাহাড়ের মানুষগুলোর মতামত- পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত তিন পার্বত্যাঞ্চলের পাড়াকেন্দ্রসমূহ শুধু পাঠদানে সীমাবদ্ধ নহে। পাড়াকেন্দ্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, গর্ভবর্তী ও শিশু সুরক্ষা নিয়েও কাজ করছে এই টেকসই সামাজিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটি।যেখানে একটি পাড়াকেন্দ্র রয়েছে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করণের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাই এই পাড়াকেন্দ্রকে আমরা শিক্ষা পাঠশালা বলবো না এটি একটি মিনি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রও বটে। এসকল পাড়াকেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়েও লেখাপড়া অনেকাংশে ভাল হয়।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাঙামাটি রাঙামাটি জেলায় ১৬৭৫, বান্দরবান জেলায় ১২২৫ ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৬০০টি পাড়াকেন্দ্র রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ২৬টি উপজেলায় ১২১টি ইউনিয়নে ৪৩০০টি পাড়াকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। খুব শিগগরই পাড়াকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার এর মাইলফলক স্পর্শ করা হবে। পার্বত্যাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ১১ খুদ্র নৃ গোষ্ঠীর ৭০%ভাগ জনগণ এই সুবিধা ভোগ করছে।

প্রত্যন্ত সাজেক এলাকার পাড়াকেন্দ্রে দোজরপাড়া-১এর শিক্ষক জয়ন্তি চাকমা ওদোজছড়ি পাড়া কেন্দ্রের শিক্ষক রিকা চাকমা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাহাড়ি উচু নিচু ঢালু পাড়ি দিয়ে অনেক কষ্ট করে এসব এলাকার শিশুদের পড়ালেখার মানোয়নে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে থাকি সে অনুপাতে আমাদের বেতন ভাতা নগন্য। শিশুদের পড়া লেখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েও আমরা মাঠে কাজ করি।

মাঠ সংগঠক শিল্পী চাকমা বলেন, আমি এই প্রকল্পে মাঠ সংগঠক হিসেবে কর্মরত থেকে প্রত্যন্ত এলাকার পাড়াকেন্দ্রগুলো দেখাশুনা করি। দুর্গম অঞ্চলে আমরা অনেক কষ্ট করে পায়ে হেটে গিয়ে পাড়াকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে হয়। তাই আমাদের প্রতি সুদৃষ্টি দিতে কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সান নিউজ/কেটি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা