সারাদেশ

সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদপুর : ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় স্থানীয় দুই মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষ, হামলা, পাল্টা হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছে।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকালেও উভয় পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি ও মাঝারদিয়া গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় গ্রামের মানুষদের শটগানের ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেট ছুঁড়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে এলাকার প্রভাব বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে কুমারপট্টি গ্রামে এসকেন মাতুব্বরের সমর্থকদের সাথে ওমর মাতুব্বরের সমর্থকদের টানা ২ ঘণ্টা সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেলে পার্শ্ববর্তী মাঝারদিয়া গ্রামে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়। মাঝারদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহিদুজ্জামান সাহিদের সমর্থকদের সাথে বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুরর রহমান হামিদের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হামিদের ছেলে ফারুক হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কুমারপট্টি গ্রামের সংঘর্ষে সাবেক চেয়ারম্যান সাহিদের সমর্থকরা অংশ নেয়। সংঘর্ষ শেষে সেখান থেকে ফিরে গ্রামে এসে আমাদের সমর্থক হাজী আতিকুর রহমানকে মারধর করে। এ নিয়ে বিকেলে সংঘর্ষ হয়।

শুক্রবার সকালে আমাদের আরেক সমর্থক মিজান শেখ পেঁয়াজের হালি চারা বিক্রি করতে গেলে মাঝারদিয়া বাজারে তাকেও মারধর করে সাহিদের সমর্থকরা। এ নিয়েই ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে এসব মাঝারদিয়ার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহিদুজ্জামান সাহিদ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, কুমারপট্টি গ্রামের সংঘর্ষ শেষে হামিদ চেয়ারম্যানের সমর্থকরা আমাদের সমর্থক জিনায়েত মোল্যার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং আমাদের সমর্থকদের ধাওয়া দেয়। এরপর থেকে মূলত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আমি এলাকা শান্ত রাখার জন্য সব সময় পুলিশের সাথে যোগাযোগ রাখছি।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ বলেন, মাঝারদিয়া গ্রামের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৬ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ১৪টি টিয়ারসেল ও ৩টি সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়া করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২৫০ জনের নামে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে ১৮ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ও ২টি সাউন্ড গ্রেনেট ছুঁড়ে কুমারপট্টি গ্রামের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

সান নিউজ/এসএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

ঈদের পরে পর্যটন কেন্দ্রের হালহাকিকাত

বিনোদন প্রতিবেদক: রমজান মাসে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল প্রায় সুনসান নীরব...

বিমসটেক সম্মেলনের পথে প্রধান উপদেষ্টা

সান ডেস্ক: এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ...

সমাজে এখনও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল এ...

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসে...

স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা