এনামুল কবীর, সিলেট : সিলেট যেনো সেই কারাবালা প্রান্তরে রূপ নিয়েছে! নগরবাসীর পানির কষ্ট দেখে তাই মনে হচ্ছে। কোথাও পানি নেই!
বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ধোয়া-মোছার পানিতো পাচ্ছেন না, খাবার পানির সংকটেও পড়েছেন তারা। যা সংগ্রহে ছিল তা ফুরিয়ে গেছে।
পানির খোঁজে পরিবারের পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর-কিশোরী, এমনকি নারীরাও এখন ঘরের বাইরে বের হতে শুরু করেছেন।
নগরীর শেখ ঘাট, কাজিরবাজার, কালিঘাট, তালতলা, উপশহর, মাছিমপুর, কদমতলী, বন্দরবাজার, ভাঙাটিকর ইত্যাদি এলাকার পরিস্থিতি খুব খারাপ। পানির জন্য তারা মসজিদের পুকুর, পুরানো পরিত্যাক্ত ছোটখাটো জলাশয় আর সুরমায় ছুটে যাচ্ছেন।
কেউ রাস্তায় ভ্যান-গাড়িতে করে কলস-বাতলি নিয়ে, আবার কেউ হাতে বাতলি-বোতল নিয়ে ছুটছেন পানির সন্ধান। কেউ আবার খাবারের পানির জন্য দোকানের বোতলজাত পানির ওপর ভরসাও রাখছেন।
পানির জন্য সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শহর এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকায় নেই কোনো নলকূপ কিংবা সুপেয় জলাধার। ফলে তারা শহরের বাহিরের চা বাগান বা শহরতলীর বিভিন্ন স্থান থেকে খাবারের পানি সংগ্রহ করতে ছুটছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজ জানান, পানি বিতরণ ব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে পানির সরবরাহও স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নয়; বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বিদ্যুৎ না থাকায়। কমে গেছে ইন্টারনেটের গতিও।
প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমার মেরামতে গতকাল থেকেই কাজ করছেন ২ শতাধিক কর্মী। রাতেও বিরতিহীনভাবে মেরামত কাজ করেছেন তারা। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কখন; এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
অবশ্য, বিকল্প উপায়ে আজ সন্ধ্যার মধ্যে সিলেট সিটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কয়েকজন প্রকৌশলী।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অনেকক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সিলেট সদরসহ বেশ কিছু অঞ্চল।
সান নিউজ/এক/এসএম